RSS Twitter Facebook Flickr

খেমা

Posted 18 August 2010 | বকবকানি   

সংযুক্ত আরব আমিরাতে রমজানে দেখা যায় এলাকায়, এলাকায় বিশাল বিশাল খেমা। পাঠক ভাবছেন খেমা কি? খেমা হল ইফতারের জন্য তৈরি এক ধরনের বিশাল তাবু। যেখানে রোজাদারকে পেট ভরে ইফতার করা হয়। এই ধরেনর খেমা আমি কাতরের থাকাকালীন সময়েও দেখে ছিলাম। প্রতিদিন আনুমানিক প্রায় লক্ষ মানুষ বিভিন্ন খেমাতে ইফতার করে । কি থাকে এই ইফতারের আয়োজনে? মিনিরেল ওয়াটার, জুস, খাসীর বিরিয়ানি বা মুরগির বিরিয়ানি, লেবন,খেজুর, কোথাও কোথাও হারিছ ইত্যাদি। কেউ কেউ আবার ইফতাররি বেছে যাওয়া ( অতিরিক্ত ইনটেক) খাবার গুলো ঘরে নিয়ে আসে। অনেকেই পুরা প্লেট খেতে না পেরে সেখানেই ফেলে আসে। আবার অনেকে শুধু মাংসটা খেয়ে বাকি চাউলগুলো ফেলে আসে। এক হিসাব মতে শুধু এই আবু ঢাবীতে প্রতি রমজানে এই ইফতারের খাদ্য অবচয় হয় ৫০০ টন। (সূত্রঃ গালফ নিউজ)।
আমরা জানি রোজাদারকে ইফতারী করানো সন্নুত এবং নেকীর কাজ। আপাতত দৃষ্টিতে কি মনে হচ্ছে না এই দেশের সরকার বা বিভিন্ন সংস্থা লোকেরা নেকীর কাজ করছে। অন্তত আমার কাছে তাই মনে হচ্ছে। একবার গভীর ভাবে ভেবে দেখুন তো এতে করে আসলেই কি কারো কোন লাভ হচ্ছে? মনে হয় হচ্ছে , কিছু লোকের অশেষ নেকী হচ্ছে, আর বেশ কিছু লোকের সারা মাসের ইফতারের খরচ বাবদ কিছু টাকা পয়সা বেচে যাচ্ছে। কিন্তু আমি বিষয়টি কে দেখেছি সম্পূর্ন ভিন্নভাবে। হয়তো আমার এই দৃষ্টিভঙ্গির সাথে অন্যকারোর মিল নাও থাকতে পারে।
লক্ষ্য করে দেখুন এই ভাবে প্রতিদিন ইফতার বাবদ যদি প্লেট প্রতি ১০ দেহরাম খরচ হয় তাহলে ১ লক্ষ লোকের জন্য ( প্রতি প্লেট এ চার জন করে) ২৫০০০গুন ১০= ২৫০০০০ দেহরাম খরচ হচ্ছে। এতে করে প্রকৃত পক্ষে কার লাভ হচ্ছে। যে ইফতার করছে তার? নাকি যে বা যারা এই ব্যয়ভার বহন করছে তাদের? এক কথায় কারোই না। এই টাকা গুলো এইভাবে অবচয় করার কোন মানে হয় না। আমি অবচয় বলছি এ জন্য যে, এই দেশে যে বা যারাই কাজ করে, তার সবাই নিজের ইফতারের ব্যয়ভার বহন করার সামর্থ রাখে। এই ইফতারের খেমাতে যারা গিয়েছেন, তারা লক্ষ্য করে থাকবেন, যারা এই এই আয়োজন করে তারা কিন্তু আপনার সাথে বসে ইফতার করে না। অনেকটা এই রকম আমি শেখ ( ধনবান) আমি কেন এই সব মিসকিনদের সাথে বসে ইফতার করবো!
যদি এমন হতো প্রতিদিন ৫০০০০ হাজার দেহরাম করে ৩ জনকে , এইভাবে ৩ গুন ৩০ জন মোট ৯০ জনকে নগদ টাকাটা প্রদান করা হতো , তাহলে তারা হয়তো এই টাকা দিয়ে কোন ব্যবসা শুরু করে, পরবর্তি বছরে হয়তো ঐ লোকগুলোও অন্যদের সাহায্যকারী হিসাবে নিজেদেরকে জাহির করতো পারতো। আমি যেটা জানি ,কোন গৃহ কর্তা ইফতারের আয়োজন করলে সে আগত অথিতির সাথে বসে ইফতার করে। দাড়িয়ে দাড়িয়ে ভাব দেখায় না যে, আইছো মিসকিনরা এই বার পেট ভরে খাও। প্রকৃত ইসলাম আমাদের দারিদ্রতা দূরীকরনের এই শিক্ষাটাই দেয়।
এই বার তাকিয়ে দেখেন তো আমাদের দেশেও কি এই রকম খেমা, ইফতার পার্টির নামে হচ্ছে না?

লেখাটি শেয়ার করুনঃ
  • Print
  • Facebook
  • Yahoo! Buzz
  • Twitter
  • Google Bookmarks
  • Add to favorites
  • Google Buzz
  • Live
  • Orkut
  • email

Leave a Reply

*