চোট্ট মা

গত ১৭ই জুলাই ২০১১ সালের সকালটা মনে হয় একটু বেশী আলোকময় ছিল। বাতাসে এক মধুর সুর বাজছিল। মনে এক অজানা  আনন্দে ভরপুর ছিল।

ছোট ভাই ফোন করলো , আমাদের ঘর ( রায়হান ভাইয়ের প্রথম সন্তান) আলো করে এক স্বর্গের পরি এসেছে।

সবাই কাছে আমার এই ছোট্ট মা এর  জন্য দু’আ চাই।

আজ (৩১-১২-২০১১)কিছু  ছবি পেলামঃ

আপডেটঃ ( ০১-০৫-২০১২)

আপডেটঃ ( ২৮-০৬-২০১২)

পাথরের উপর লিখন

কিছুদিন আগে আলাইন এর সবচেয়ে উচু পাহাড় জাবেল হাফেত এ গিয়েছিলাম।
প্রচুর ছবি তুলে ছিলাম, কিন্তু  আলসমীর কারণে কোন কিছুই শেয়ার করা হয় না।
আজ ঐ সব ছবি হতে পাথরের উপর লিখা কিছু  নমুনা দেখুন।

মেয়েটি

আচ্ছা মেয়েটা যাওয়ার সময় পিছনে ফিরে তাকায় না কেন?

তাহলে কি …. দূর আমি এই সব কি চিন্তা করছি।

ইদানিং আমার মাথা পজেটিভ কোন চিন্তাই আসে না যা আসে তা খালি নেগেটিভ। অব্যশই সব পজেটিভ কিন্তু ভাল না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে নেভেটিভ ই ভাল। এই তো সেদিন পাশের বাড়ীর একজনের শরীর খারাপ করলো, বেশকিছু হাই-লেভেলের কিছু টেস্ট করে ধরা পড়লে এইচ আই …. পজেটিভ। কোথায় সবার খুশি হওয়ার কথা , তা না উল্টা সবাই চিন্তাই ভেঙ্গে পড়লো। সেদিন হতে আমার মনে দৃঢ়ভাবে গেথে গেল রেজাল্ট পজেটিভ না হয়ে নেগেটিভ হলেই ভাল হয়।

বাপ্পী হঠাৎ করে কইলো দোস্ত তোরে মনে হয় ঐ মাইয়্যার চাইতে তার বান্ধবীটা বেশী লাইক করে।

ক্যামনে বুঝলি…

আরে দেখ না হের বান্ধবী যাওয়ার সময় বার বার পিছনে ফিরে দেখছে…

আমি অবাক হয়ে তাই দেখলাম, আসলেই তো, বন্ধুর কথা শুনে ভীষণ চিন্তাই পড়ে গেলাম।

তাইলে কি আমি ভুল করতেছি…..

আমার এই বন্ধু নোয়াখালীর,  কেন যেন সবাই নোয়াখালীর বদনাম করে তা আমার মাথায় আসে না। অথচ দেখ এই বন্ধু-ই আমার সবচেয়ে কাছের মানুষ। যখনই কোন পরামর্শের প্রয়োজন হয়েছে , সর্বপ্রথম আমারই এই বন্ধই এগিয়ে এসেছে। যেমন, সবাই আমারে আদর করে লাশ নামে ডাকলেও আমার এই বন্ধুটি সব সময় পলাশ নামেই ডাকে।

আমার মনের অবস্থা কেরাসিন, যেন কেউ ম্যাচের কাঠি ফেলে দিলেই দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে উঠবে। বাপ্পী ঠিকই বুঝতে পারলো, কিন্তু যার জন্য এই হাল সে যে কেন বুঝে না।

বাপ্পী অনেকক্ষন চোখ বন্ধ করে আছে, যখনই এ ব্যাটায় চোখ বন্ধ করে থাকে তখনই তার জিলাপী প্যাচ মার্কা বুদ্ধি বের হয়। আমি অপেক্ষা করছি কখন সে চোখ খুলে, টানা ১০ মিনিট পর চোখ খুলে একটা ভুবন ভোলানো হাসি দিয়ে বলল দোস্ত , মেয়েটিকে তোর প্রতি ইমপ্রেস বাড়ানোর উপায় বের করে ফেলেছি। আমি খুশিতে গদগদ তার দিকে তাকেই সে বলল , ৩ টা কাজ করতে পারবি।

আমি বললাম দুনিয়া একদিকে আর তোর কাজ আরেক দিকে , মেয়েটিকে পাওয়ার জন্য আমি আমার জান পর্যন্ত দিতে রাজী। বাপ্পী কিছুটা বিরক্ত হয়ে বলল জান দিলে আর মেয়েটারে পাওয়ার দরকার নাই, তুই জান দিতে যা , আমি চললাম।

বাপ্পীর কথা শুনে আমার খুশির জোয়ারে হালকা বাধা আসল। বাপ্পী এবার চেহেরাটা গম্ভীর করে বলল শুন আমি যা বলছি ( এই ব্যাটার এই একটা জিনিষই খারাপ লাগে যখনই কোন পরামর্শ দেয় তখন চোখ-মুখ কেমন কঠিন করে একটা গাম্ভীর্য ভাব নিয়ে আসে) ,

১। তুই একটা মরট সাইকেল কিনে ফেল

২। রেগুলার হরলিকস খা

৩ । তোর গায়ের রং ফর্সা করার জন্য ফেয়ার এন্ড লাভলী ব্যবহার কর।

দোস্তে প্রথম এবং শেষেরটা বুঝলাম কিন্তু মাঝের টা কিছুই বুঝলাম না। হরলিকস এর সাথে প্রেম এর কি সর্ম্পক।  জিগাসাও করতে পারছি না, কারণ ব্যাটায় যখন পরার্মশ দেয় কোন প্রশ্ন করলে রেগে যায়। এর পর আজকে পাল্টা প্রশ্ন করলাম , ক, হরলিকস এর সাথে আমার এই সর্ম্পকের কি ?

আজকে মনে হয় আমার অবাক হওয়ার দিন, দোস্ত আমার কোন রকম রাগ না করে একটা হাসি দিয়ে বলল, ব্যাটা তুই যারে চাস , সে তো তোর চাইতেও একটু লম্বা, ছোট বেলায় যদি হরলিকস খাইতি তাহলে আজকে তুইও লম্বা হইতি।

কথা গুলো বেশ মনে ধরলো ধীরে ধীরে বাড়ীর দিকে আগাতে লাগলাম, পাল্লা দিয়ে সূর্যটাও ডুবতে শুরু করেছে। বাসায় পৌছতে পৌছতে রাত হয়ে গেল। মা হাসি মুখে দরজা খুলে দিলো, কিন্তু মা কে দেখে আজ আমার মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। আসলেই আজ আমার অবাক হওয়ার দিন , মা কে দেখে কেন মেজাজ খারাপ কেন হচ্ছে।

মা আমাকে দেখে বলল আয় বাবা ভাত রেডি করা আছে খেয়ে নে আগে।

নিজেকে একটা চিকেন মনে হয়

একটা ধর্মীয় কিতাব পড়ছিলাম। বিষয়টা ছিল কম খাওয়া উপকারিতা। কম খাওয়া হলে শরীরে অলসতা আসে না এবং বিভিন্ন রোগ হতে বেচে থাকে যায়, তাছাড়া ভরা পেটে মন প্রফুল্ল থাকে বলে মানুষ ধীরে ধীরে আল্লাহর ইবাদত হতে নিজে দূরে সরিয়ে ফেলে।

– আই টি  ১০ টাকা দে । চিকেন খামূ। ( উল্লেখ্য যে ইউ. এ . ই তে আমরা দেহরামকে টাকা বলেই ডাকি, এটা বাঙ্গলীদের একটা অভ্যাসগত সমস্যা)

– তুমি খাও, আমার কাছে টাকা নাই । মাসের এই শেষে আমার হাত টান যাইতেছে ( উদ্দেশ্য কম খেয়ে কিতাবে উল্লেখ্যতি মহামানবদের পথ অনুসরন করা)

– টাকা নাই মারাইস না, ইউসুফ ভাই , আই টিরে ক, টাকা দেওয়ার জন্য।

-আই টি দিয়া দে, জি এম দরকার হইলে ১৫ টাকা দিবো।

– কি আমি পনের টাকা দিমু মানে, আমি গাড়িও দিমু আবার তেল খরচও দিমু , না এইসব হবে না।

– হে হে হে তাইলে চিকেন খাওয়ার দরকার নাই , আমার দশ টাকা দেওয়ারও দরকার নাই, আল্লাহ বাইচ্ছা গেছি।

– বাইচ্ছা গেছি মারাইস না। টাকা বাহির কর।

– আচ্ছা আই টি , জি এম যখন এত করি কইতেছে দি দে।

– দেখেন ইউসুফ ভাই , জি এম হইলো তালুকদার বংশের লোক, হে যদি চান্দা তুইলা চিকেন আনে , তাইলে কি আর তালুকদারে  ইজ্জত রইল, আমি দশ টাকা দিয়া তালুকদার বংশের মান সম্মান কমাতে চাই না।

– আচ্ছা যা, দশ না পারছ, পাচ টাকা দে, বাকি ২০ টাকা জি এম দিবো, কারন হে হইল  তালুকদার।

– এ এ এ, আমি ১০ টাকা দিমু  , ২০ টাকা দিমু না।

– ২০ টাকা না দিলে খালাস , খাওয়ার দরকার নাই।

– আরে দিবো , আই টি দে , দে ভাই, ৫ টাকা দে। আমিও ৫ টাকা লগে দিতাছি ।

– এই ইউসুফ ভাই, এই সব কি, আপনি কি জন্য ৫ টাকা দিবেন, আপনি দিবেন ১০ টাকা। পাচ টাকা হবে না।

– ইয়া জি এম, আমরা গরীব মানুষ, তাছাড়া হাতের লেখা অত্যান্ত খারাপ, সেই জন্য ৫ টাকা কইরা দিমু।

– আই টি হাসাইস না। ১০ টাকা কইরা ২০ টাকা বাইর কর।

– আমার কাছে পাচ টাকা আছে , এর বেশী নাই।

– আইচ্ছা মা….রি দে ।

-ইয়া আল্লাহ , ইউসুফ ভাই চল, তাড়াতাড়ি আয়, মাগরিব এর লগে লগেই খামু।

– আরে মিয়া আযান হইতাছে , মাগরিব পইড়া যাও।

ইউসুফ ৩০ মিনিট পর চিকনে নিয়া অফিস হাজির।

– ইউসুফ ভাই , জি এম কই?

– গাড়ি পার্কিং কইরা আইতেছে।

– এ্যা দেরী নাই, আই টি, আমি না আসার আগেই খুইল্লা ফেলসোস

– না মানে , তুমি এতো কস্ট করে চিকেন নিয়া আইছো, আবার উপরের আইসা সার্ভ করবা , দেখতে ভাল লাগবো না, তার লাইগা আমিই খুলা শুরু করছি।( আসলে খাওয়া শুরু করে দিয়েছি)

– আচ্ছা শুরু কর , খানা সামনে রাইখা দেরী করলে খানা অভিশাপ দিবো।

খাওয়া শেষ করে রুমে গেলাম। অফিসের কাজে আমাদের ডিজাইনার ডুবাই গিয়েছিল ম্যানাজারের সাথে, আমি রুমে আসার পাচ মিনিট পরই ডিজাইনারের আগমন সাথে একটা প্যাকেট।

– দোস্ত , নিচে ব, কে এফ সি র চিকেন আনছি।

– আমি খামু না।

– আরে ব্যাটা খাইতে না পারছ, একটু টেস্টতো করবি

– আইচ্ছা

– জাকির ভাই আপনেও আসেন

– জাকির ভাই আমি আজকে ভাত খাব না।

– খাবেন না কেন, আজকে তো চিকন পাকাইছি, মিয়া না খাইলে কি হয়

– ভাই পেটে জাগা নাই

– কিরে ভাই, আমারে বাদ দিয়াই শূরু করছেন

– আরে বেলাল ভাই , আসেন , কাধে  এতবড় কার্টনে কি আনসেন

– আজকে ক্যারি ফোর দেখলাম চিকেন ডিসকাউন্ট দিছি, ১ পিছ চিকেন ১০টা , আর কার্টন নিলে ৯ টা করে, তাই চিন্তা করলাম , পুরা কার্টনটা নিয়া ফেলি। গুরূ আপনে কি কন।

– বেলাল ভাই , ভালা করছেন, আরেকটা কাজ করেন , নিজের এখন আর মানূষ মনে হয় না। আমারে কোন চিকেন ফার্মকে রাইখা আসেন, এই  চিকেন খাইতে খাইতে মনে হয়তাছে আমিও একটা চিকেন।

লাইভ ও,এস

লাইভ  অপারেটিং সিসটেম হল ইন্সটল করা ছাড়াই সরাসরি সিডি হতে বুট করে কম্পিউটার রান করানো। ইদানিং প্রায় সব ও,এস এরই একটা করে লাইভ ভার্সণ রিলিজ হতে দেখা যাচ্ছে। আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয় কতগুলি লাইভ ও,এস এর নাম আপনি জানেন? হয়ত এর সঠিক তথ্য আপনার জানা নাই। নিচের লিংকটা দেখুন।

http://www.livecdlist.com/

ঢোল, দু প্রান্তে মারি বারি

সে অনেক দিন আগের কখা। ফটিক চন্দ্র ( ছ্দ্ম নাম) আর্ট কলেজ এ পড়ছে, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আলপনা করে দেওয়ার জন্য তার ছিল বিশাল খ্যাতি। বিজয় দিবস উপলক্ষে নেতাজী আগের রাতে ( ছদ্মনাম, তখনও আমার এই বন্ধু রাজনৈতিক অঙ্গনে এতটা পরিচিত হয়ে ইঠে নাই) ডাক দিল ফটিক কে । বাস্তায় একটি আলপনা এবং কিছু চিকা মারতে হবে। তো নেতাজীর এহেন কর্মে আমাদেরও দেশ দরদের মন উথলে উঠল। আমি আর আমার ডিজাইনার বন্ধু ( সে তখনও ডিজাইনর হয়নি, তবে ম্যাচের কাঠি, সিগারেট এর প্যাকেট আরো কত কি দিয়ে যেন কিতারা কিতারা ডিজাইন বানাতো) ঠিক করলাম আমরা এতে অংশ নিবো। ফটিক চন্দ্র মন দিয়ে রাস্তায় আলপনার কাজ করে যাচ্ছে , আর আমি এবং ডিজাইনার দু জন মিলে গাড়ি থামিয়ে কাজের প্রিন্ট করা একটা করে দেশের পতকা লাগিয়ে দিচ্ছি। নেতাজীকে দেখলাম আমরা যে গাড়িতে পতাকা লাগাচ্ছি , সে সেই গাড়ীর ড্রাইভার হতে কিছু টাকা চাদা তুলছে। দেখলাম কোন ড্রাইভারই খালি হাতে ফিরিয়ে দিচ্ছে না। এ দিকে ফটিক এর কাজ প্রায় শেষ আর আমাদেরও পতকা শেষ হয়ে আসছে। কারো আসলে তখন নেতাজীর কথা মনে নেই। হঠাৎ ফটিক এসে বলল দোস্ত কাজ শেষ, নেতাজী কই। আমি আর ডিজাইনার সহ চারদিকে চোখ বুলিয়ে খোজতে লাগলাম। নাহ নেতাজীর কোন হদিস নেই। আমি বললাম যাকগা , আমাদের কাজ তো শেষ। ঠিক তখনই ডিজাইনার চেচিয়ে বলল, “হালায় চাদার সবগুলো টাকা মাইরা দিলো।” এ ঘটনার পর হতে নেতাজীর সাথে আর দেশ উদ্ধার করতে একিত্র হয় না। নেতাজীর সাথে কম চলতে লাগলাম , যার যার কাজ কর্ম নিয়ে ধীরে ধীরে ক্যারিয়ার গঠনে সচেস্ট হতে লাগলাম।

এ বছরের প্রথম দিকে আমি তখন দেশে। এর মধ্যে অনেক সময় পার হয়ে গেছে। ফটিক চন্দ্র বিয়ে করেছে, এখন আর আলপনা, চিকা মারে না। ডিজাইনার বেশ ভাল একটা চাকুরী ঝুটিয়ে নিয়েছে। বড় কোম্পানীর ডিজাইন এন্ড প্রিন্টং কাজ গুলি এখন তার হাত দিয়ে হয়। নেতাজী এলাকার যে কোন সমস্যায় উপস্থিত থাকে। সেই সময় মাত্র নতুন সরকার দেশ পরিচালনা শুরু করেছে। নেতাজী ছিল বিরোধী দলীয় আর্দশে বিশ্বাসী। ঈদে হঠাৎ ডিজাইনের বাবা অসুস্থ হয়ে গেল। বিকালে আমি, ডিজাইনার এবং নেতাজী তিন জন মিলে উনাকে দেখার জন্য জি ই সি এর মোড়ে ক্লিনিকে দেখতে গেলাম। কিছুক্ষন সময় অতিবাহিত হওয়ার পর বের হয়ে আসলাম, উদ্দেশ্য ঘরে ফিরে যাবো। নেতাজী বলল দোস্ত কাছেই মেহেদীবাগ ঐ খানে আমার বস( এক সময় কার বানিজ্য মন্ত্রী) থাকে চল পাচঁ মিনিটে একটু দেখা করে আসি। রাজি হয়ে গেলাম। এসে দেখি নেতার বাড়ীতে এলাহি কাজ কারবার , চট্টগ্রামের যত আতি-পাতি নেতা আছে সব উনাকে ঘিরে বসে আছে। জীবনে এই প্রথম কোন প্রথমসারীর নেতার সাথে সরাসরি দেখা এবং কোলাকুলি হল। আহ, নিজেকে ধন্য মনে করতে লাগলাম আর মনে মনে নেতাজীর প্রসংশা করতে লাগলাম। কিছুক্ষন পড়ে দেখি ঐতিয্যবাহী মেজবানী খানা। নেতাজীর সাথে আমরা বসে পড়লাম। এই সময় নেতাজী তার সহযোদ্ধাদের সাথে আমাদের পরিচয় করিয়ে দিল। নেতাজী এর মাঝে চুপিসারে আমাদের জানিয়ে দিল আমি যে দুই বাচ্চার বাপ তা যেন এখানে ফাস করা না হয়, কারণ আমি ছাত্র নেতা! শেষ পর্যন্ত প্রায় দেড় ঘন্টায় পাচঁ মিনিট শেষ হলো। সি এন জি স্কুটার নিতে চাইলে নেতাজী বাধা দিয়ে বলল পথে সুগন্ধা ঐ খানে আমার আরেক বস থাকে, বিশ্বাস কর শুধু কোলাকুলি করেই চলে আসবো। ভাবলাম পেট তো ভরা, আচ্ছা যাক না । সাথে করে আমার ঐ নেতার বাসায় প্রবেশ করলাম। কোলাকলি এবং পরিচয় পর্ব শেষ করে যেতে চাইলেও যেতে দিচ্ছে না, ঈদের দিন কেউ কি আর খালি মুখে বিদায় নিতে পারে। বসে পড়লাম। দেওয়ালের দিকে চোখ পড়তেই আমার চোখ ছানাবড়, না , না না, আমি একি দেখছি এ কার ছবি। না এ হতে পারে না। এ দেখি শেখ মুজিবের ছবি। যে নেতা জিয়ার আর্দশে বিশ্বাসী সে কিনা এই মুজিব সেনার বাসায়।

হিসাব মিলাতে পারলাম না। সি এন জি স্কুটারে বসে শুধু ভাবছি। মনে পড়ছে, ঢোল , আমি দেখেছি এই বাদ্যযন্ত্রটি দু ধরেন হয়। এক পিঠ ওয়ালা, আরেকটি হল দু পিঠ ওয়ালা। ঢুলিকে দেখতাম দু পিঠের ঢোলকে কাধে ঝুলিয়ে দু হাতে দুদিকে বারি মারছে , আর কি সুন্দর টাকডুম টাকডুম আওয়াজ করছে। আমার এই নেতা বন্ধুটি সেই ঢুলি হয়ে রাজনীতি নামক ঢোল এর দু দিকে কি সন্দুর করে বারি মারছে, আমার মধুর সুর তুলে জনগনকে সেবা করে যাচ্ছে।

খেমা

সংযুক্ত আরব আমিরাতে রমজানে দেখা যায় এলাকায়, এলাকায় বিশাল বিশাল খেমা। পাঠক ভাবছেন খেমা কি? খেমা হল ইফতারের জন্য তৈরি এক ধরনের বিশাল তাবু। যেখানে রোজাদারকে পেট ভরে ইফতার করা হয়। এই ধরেনর খেমা আমি কাতরের থাকাকালীন সময়েও দেখে ছিলাম। প্রতিদিন আনুমানিক প্রায় লক্ষ মানুষ বিভিন্ন খেমাতে ইফতার করে । কি থাকে এই ইফতারের আয়োজনে? মিনিরেল ওয়াটার, জুস, খাসীর বিরিয়ানি বা মুরগির বিরিয়ানি, লেবন,খেজুর, কোথাও কোথাও হারিছ ইত্যাদি। কেউ কেউ আবার ইফতাররি বেছে যাওয়া ( অতিরিক্ত ইনটেক) খাবার গুলো ঘরে নিয়ে আসে। অনেকেই পুরা প্লেট খেতে না পেরে সেখানেই ফেলে আসে। আবার অনেকে শুধু মাংসটা খেয়ে বাকি চাউলগুলো ফেলে আসে। এক হিসাব মতে শুধু এই আবু ঢাবীতে প্রতি রমজানে এই ইফতারের খাদ্য অবচয় হয় ৫০০ টন। (সূত্রঃ গালফ নিউজ)।
আমরা জানি রোজাদারকে ইফতারী করানো সন্নুত এবং নেকীর কাজ। আপাতত দৃষ্টিতে কি মনে হচ্ছে না এই দেশের সরকার বা বিভিন্ন সংস্থা লোকেরা নেকীর কাজ করছে। অন্তত আমার কাছে তাই মনে হচ্ছে। একবার গভীর ভাবে ভেবে দেখুন তো এতে করে আসলেই কি কারো কোন লাভ হচ্ছে? মনে হয় হচ্ছে , কিছু লোকের অশেষ নেকী হচ্ছে, আর বেশ কিছু লোকের সারা মাসের ইফতারের খরচ বাবদ কিছু টাকা পয়সা বেচে যাচ্ছে। কিন্তু আমি বিষয়টি কে দেখেছি সম্পূর্ন ভিন্নভাবে। হয়তো আমার এই দৃষ্টিভঙ্গির সাথে অন্যকারোর মিল নাও থাকতে পারে।
লক্ষ্য করে দেখুন এই ভাবে প্রতিদিন ইফতার বাবদ যদি প্লেট প্রতি ১০ দেহরাম খরচ হয় তাহলে ১ লক্ষ লোকের জন্য ( প্রতি প্লেট এ চার জন করে) ২৫০০০গুন ১০= ২৫০০০০ দেহরাম খরচ হচ্ছে। এতে করে প্রকৃত পক্ষে কার লাভ হচ্ছে। যে ইফতার করছে তার? নাকি যে বা যারা এই ব্যয়ভার বহন করছে তাদের? এক কথায় কারোই না। এই টাকা গুলো এইভাবে অবচয় করার কোন মানে হয় না। আমি অবচয় বলছি এ জন্য যে, এই দেশে যে বা যারাই কাজ করে, তার সবাই নিজের ইফতারের ব্যয়ভার বহন করার সামর্থ রাখে। এই ইফতারের খেমাতে যারা গিয়েছেন, তারা লক্ষ্য করে থাকবেন, যারা এই এই আয়োজন করে তারা কিন্তু আপনার সাথে বসে ইফতার করে না। অনেকটা এই রকম আমি শেখ ( ধনবান) আমি কেন এই সব মিসকিনদের সাথে বসে ইফতার করবো!
যদি এমন হতো প্রতিদিন ৫০০০০ হাজার দেহরাম করে ৩ জনকে , এইভাবে ৩ গুন ৩০ জন মোট ৯০ জনকে নগদ টাকাটা প্রদান করা হতো , তাহলে তারা হয়তো এই টাকা দিয়ে কোন ব্যবসা শুরু করে, পরবর্তি বছরে হয়তো ঐ লোকগুলোও অন্যদের সাহায্যকারী হিসাবে নিজেদেরকে জাহির করতো পারতো। আমি যেটা জানি ,কোন গৃহ কর্তা ইফতারের আয়োজন করলে সে আগত অথিতির সাথে বসে ইফতার করে। দাড়িয়ে দাড়িয়ে ভাব দেখায় না যে, আইছো মিসকিনরা এই বার পেট ভরে খাও। প্রকৃত ইসলাম আমাদের দারিদ্রতা দূরীকরনের এই শিক্ষাটাই দেয়।
এই বার তাকিয়ে দেখেন তো আমাদের দেশেও কি এই রকম খেমা, ইফতার পার্টির নামে হচ্ছে না?

যে ভাবে সংগ্রহ করা যায় নুড৩২ এন্ট্রিভাইরাস ইউজার নেইম এবং পাস

কাজটি করা জন্য আপনি গুগল কে ব্যবহার করতে পারেন।
গোগল এর সার্চ বক্স এ লিখুন nod32 username and password । এইবার সার্চ এ ক্লিক করে দেখুন তার ফলাফল।

অথবা নিয়মিত আপডেট কী পেতে ঢুঁ মারুন এইখানে।
এন্ট্রিভাইরাস আপডেট রেখে ভাইরাস এর আক্রমন হতে পিসি কে সুস্থ রাখুন।

একাউন্টিং সফটওয়্যার নিয়া যত প্যাচালী …..

হিসাব নিকাশ করারর সনতন পদ্ধতি বাতিল হয়ে যাচ্ছে , কম্পিউটার ব্যবহার করা ফলে।কম বেশি সবারই দৈনিক হিসাব নিকাশ এ প্রয়োজন হয়। তো আজ দেখবো কিছু সফটওয়্যার রি-ভিউ, যা দিয়ে আপনি আপনার হিসাব নিকাশ গুলো সহজেই কম্পিটারাইজ করে নিতে পারেন।

নেটে সার্চ দিলে আপনি বেশ কিছু সফটওয়্যার পেয়ে যাবেন। কিন্তু তা হতে সত্যিকার কাজের কোন গুলো তা নির্ধারন করা কঠিন। একাউন্টিং সফটওয়্যার নিবার্চনের সময় ফ্রী গুলো পরিহার করুন, কারন এতে প্রফেশনাল কোন সলিউশন পাবেন না।

১। পিচট্রি

প্রফেশনাল কাজের জন্য বেশ কার্যকর একটা একাউন্টিং সফটওয়্যার।একাউন্টিং, স্টক, কাস্টমোইজ রিপোর্ট, পে-রোল এবং এইচ আর সহ বেশ কিছু ফিচার রয়েছে , যা আপনার বা আপনার প্রতিষ্ঠানের কাজ গুলিতে গতি আনতে পারবে।

তবে আমার কাছে এর ব্যবহার পদ্ধতি একটু জটিল মনে হয়ে হয়েছে। বিস্তারিত জানতে 

এই লিংকএ ক্লিক করুন।

২। কুইক বুক প্রো

আমার দেখা সবচেয়ে বেস্ট একটা একাউন্টিং সফটওয়্যার। পিচট্রি এর মতো সব বৈশিষ্ট এতে রয়েছে, তবে এর ব্যবহার পদ্ধতি সবচেয়ে সহজ বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। সহজ চেক প্রিংন্টি, এসেম্বলিং প্রোডাক্ট সহ বেশ কিছু ফিচার রয়েছে , যা দিয়ে সাধারন ট্রেডিং হতে ম্যানুফেকচার কোম্পানীরও কাজে আসবে। আরো কিছু জানতে ক্লিক করুন।

৩। ট্যালি

সবচেয়ে লাইট একটা একাউন্টিং সফটওয়্যার। স্টক, একাউন্টিং, পে-রোল, পয়েন্ট অফ সেলস, মাল্টিইউজার ফিচার সহ বেশ জনপ্রিয় একটা একাউন্টিং প্যাকেজ।এর সাথে পয়েন্ট অফ সেলস সপার ৯ ও কাজ করে।মাল্টি ল্যাঙ্গুয়েজ, মাল্টি কারেন্সির সাপোর্ট এবং সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো এটিতে বাংলাও রয়েছে।  বিস্তারিত জানতে এই খানে একটি ক্লিক মারুন।

 

৪। মাইক্রোসফট অফিস একাউন্টিং

সব কিছুতেই মাইক্রোসফট এর উপস্থিতি যেন একটা কমন বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। এই লাইনে তাদেরও একটা প্রোডাক্ট যেন থাকতেই হবে। তা না হলে মান – সম্মান – ইজ্জত বুঝি আর থাকে না। ইন্সটল করতে গিয়ে টের পাইছি কত ধানে কত চাউল। যা হউক, এর ইন্টারফেইচ বেশ ইউজার ফেন্ড্রলী, নতুন যে কেউ সহজ্ই এটি ব্যবহার করতে পারবে। তবে এটি এখনো নিদির্ষ্ট কিছু রিজন এর জন্য প্রযোজ্য। তবে আপনি চাইলে ত ব্যবহার করে দেখতে পারেন।
বিস্তারিত এই খানে।

উপরের এই সকল একাউন্টিং প্যাকেজগুলি (ট্যালি ছাড়া)স্ট্যান্ডএলোন। মানে হলো এর কোন নেটওয়ার্ক সাপোট নেই। তাই এগুলো দিয়ে রিয়েল টাইম মাল্টি ইউজার কাজ করা সম্ভ নয়।

তাহলেই উপায় কি?

অপেন সোর্স ভিত্তিক openErp হতে পারে আপনার সমাধান। টাকা পয়সার কোন মামলা নাই, কিন্তু কাজ কার হলো টাকা পয়সা নিয়া। বিস্তারিত জানতেএই খানে ক্লিক করুন।

তাহলে অনলাইন সুবিধাই বাকি থাকবে কেন?

অনলাইন ভিত্তিক একাউন্টিং সুবিধা পাওয়ার জন্য ব্যবহার করতে পারেন প্রীরিবুকস। তবে এর জন্য আপনার নিজস্ব ডোমেইন এবং হোস্টিং প্রয়োজন হবে।লেজারবুক, স্টক, সেলস, ভেন্ডর, এইচ আর সহ অন্যান্য ফিচার সম্বলিত এই একাউন্টিং স্ক্রীপ্ট হতে পারে আপনার একটি আর্দশ সমাধান। এটা ও অপেন সোর্স নীতি মালায় বিতরনকৃত।  বিস্তারিত এইখানে

Leave a Reply

ট্যালি (ধারাবাহিক) পর্ব-১

ট্যালি দিয়ে খুব সহজেই আপনার প্রতিষ্ঠানের হিসাব নিকাশ কে কম্পিউটারাইজ করে নিতে পারেন।

এর ফিচারগুলো নিম্নে দেওয়া হলঃ

  • লেজার বুক
  • প্রতিটি লেনদেনে জন্য ভাউচার
  • ট্রাইল ব্যালেন্স
  • ব্যালেন্স শীট
  • ইনভেনটরি
  • পে-রোল
  • কস্ট সেন্টার
  • পয়েন্ট অফ সেলস
  • ডে বুক
  • ডাটা ইমপোর্ট এবং ব্যাকআপ
  • নেটওয়ার্ক সাপোর্ট
  • মাল্টি ল্যাঙ্গুয়েজ
  • মাল্টি কারেন্সী
  • একাধিক ইউজার
  • এবং অন্যান্য

এটির সব চেয়ে বড় সুবিধা দেখলাম, এটি ইন্সটল করে নিয়ে , এর ইন্সটল করা ফোল্ডারটি আপনার পেন ড্রাইভে কপি করে নিন এবং অন্য আরেকটি কম্পিউটারে সেটি অপেন করে দেখুন, কি অবাক হয়ে গেলেন! ভার্সন ৯ এ আমি ট্রাই করে দেখেছি, ভালই কাজ করে।

ট্যালি একটি কর্মাসিয়াল একাউন্টিং সফটওয়্যার তাই এটি ব্যবহার করার জন্য আপনাকে পে করতে হবে। তবে আশার কথা হলো এর একটি এডুকেশন ভার্সন রয়েছে যা দিয়ে আপনি লারনিং এর কাজ গুলো চালিয়ে যেতে পারবেন। আর কিছু কমু না কইলে বুইঝা ফালাইবেন।

প্রশ্ন জাগতে পারে , আমি তো একাউন্টিং জানি না, আমি কি শিখতে পারবো? জী পারবেন, তার জন্য আপনাকে একাউন্টিং খুব একটা জানতে হবে না।

আসুন ট্যালি শিখার আগে , যে প্রতিষ্ঠানের জন্য এটি ব্যবহার করবেন তার ধরন কি তা জেনে নিই।

ধরে নেন আপনার প্রতিষ্ঠানে নিম্নের কাজগুলি হয়ে থাকেঃ

১। পন্য ক্রয়

২। স্টক

৩। বিক্রয়

৪। ক্রয় এবং বিক্রয় ফেরত

৫। বিভিন্ন ধরনের খরচ ( বেতন , বিল ইত্যাদি)

৬। ব্যাংকিং

আবার ধরি আপনার একটি কম্পিউটার প্রতিষ্ঠান আছে , যেখানে নিম্নের কাজ গুলি হয়ে থাকেঃ

১। পন্য ক্রয়

২। স্টক

৩। প্রাইস লিস্ট ( খুচরা , পাইকারী, স্পেসাল অফার)

৪। বিক্রয়

৫। সার্ভিসিং

৬। ট্রেনিং

৭। ব্যাংকিং

৮। বিভিন্ন ধরেন খবর

৯। বিবিধ ইনকাম

আবার কোন কোন প্রতিষ্ঠান আছে, এতো সেতো বুঝি না বাপু, ১০০০০ (দশ হাজার) টাকার পন্য ক্রয় করেছি, ১১০০০ ( এগার হাজার) টাকায় বিক্রয় করেছি , কোন স্টক টেস্টক এর হিসাব রাখি না।

এবার আসনু হালকা পাতলা হিসাব বিজ্ঞান জানার চেস্টা করি।

একটা লেনদেন এর দুটা সাইড থাকে । যেমনঃ আপনি ১০ টাকা দিয়ে একটি কলম ক্রয করেছেন , এতে আপনি ( ক্রেতা )পেলন পন্য এবং আপনার কাছ হতে চলে গেল ১০ টি টাকা। এর মানে কি দাড়ালো , টাকার বিনিয়মে একটা পন্য পেলেন। এখানে যা পেলেন(পন্য) তা ডেবিন এবং যা হারালেন( টাকা) তা ক্রেডিট। কি টিউনার ভাই সকল এতটুকু কি বুঝে এসেছে?

একটা প্রতিষ্ঠানের হিসাবের দুটা দিক থাকে। দায় এবং সম্পত্তি। আর বেশী কিছু জানার দরকার নেই , হিসাব বিজ্ঞানের এই সামান্য জ্ঞান নিয়েই আমরা ট্যালি শিখে নিতে পারবো।

[ তবে একখান কথা, ভালভাবে শিখার জন্য হিসাব বিজ্ঞানের উপর অবশ্যই দক্ষতা থাকতে হবে। ]